সূচনা

প্রস্তাবনা: নিজের সাথে নিভৃত বোঝাপড়া

নীরবতার ভেতর যখন শব্দরা চিৎকার করে ওঠে

৪ মিনিট পাঠ

মানুষ আসলে কেন লেখে?

যখন বুকের ভেতরে জমতে থাকা পাথরগুলোর ভার আর একা বহন করা যায় না, যখন কাউকে ডেকে বলা যায় না: আমি ভালো নেই, তখন মানুষ অক্ষরের আশ্রয় নেয়। অক্ষর কাউকে বিচার করে না। অক্ষর কোনো সান্ত্বনার বুলি আওড়ায় না। অক্ষর কেবল নীরবে ধারণ করে প্রতিটি না-বলা দীর্ঘশ্বাস।

আমি কোনো লেখক নই। কোনো তত্ত্ব বা জটিল দর্শনের পাঠ দিতেও এই খাতা খোলা হয়নি। এই বইটা আসলে একজন ক্লান্ত পথিকের নিজের সাথে নিজের বোঝাপড়া।

মাঝে মাঝে মধ্যরাতে শহরের কোলাহল যখন সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়, টেবিলের বাতির আলোয় নিজের ছায়ার দিকে তাকালে এক অদ্ভুত ভয় কাজ করে। মনে হয়, পৃথিবীর সামনে আমরা যে মানুষটা সেজে অভিনয় করে যাই, হাসিমুখে কথা বলি, বন্ধুদের আড্ডায় রসিকতা করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সুখের ছবি পোস্ট করি, সে তো আসলে আমি নই। সেই মানুষটা একটা মুখোশ। আর আসল মানুষটা প্রতিদিন রাতের অন্ধকারে একা একা ক্ষয়ে যায়।

মানুষের নিত্যনৈমিত্তিক খাটে স্বপ্ন দেখার আলাদা কোনো বিছানা-বালিশ নেই। অবিকল স্বপ্নের মতো নারীও শুয়ে নেই কোনো খাটে।

আমাদের জীবনের অধিকাংশ দুঃখের কারণ প্রেম নয়, বরং প্রেমের অপ্রাপ্তি। অথবা বলা ভালো, মানুষকে নিজের মতো করে পাওয়ার অন্ধ আকুলতা। আমরা কাউকে ভালোবেসে তার সর্বস্ব নিজের করে পেতে চাই, আর যখন সে হারিয়ে যায়, তখন মনে হয় আমাদের অস্তিত্বের একটা বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।

অথচ স্টোয়িক দার্শনিকরা বলে গেছেন, যা তোমার ছিল না, তা হারানোর কোনো অধিকারও তোমার নেই। এই যে পথচলা, এই যে ক্লান্তি, এই যে একাকীত্ব, এগুলো কোনো অভিশাপ নয়। এগুলো জীবনেরই অনিবার্য ব্যাকরণ।

এই বইয়ের পাতাগুলোতে আপনি কোনো সমাধান পাবেন না। এখানে পাওয়া যাবে কিছু ফেলে আসা স্মৃতির ধুলো, কিছু অব্যক্ত প্রেমের দীর্ঘশ্বাস, আর মধ্যরাতের নিভৃত কিছু আত্মোপলব্ধি। যদি কোনো লাইনে আপনার বুকের পুরনো কোনো ক্ষতের সাথে মিল খুঁজে পান, তবে জানবেন, এই নিঃসঙ্গ যাত্রায় আপনি অন্তত একা নন।

চলুন, আমরা একসাথে এই শূন্যতার ভূগোল মানচিত্রে পা রাখি।