অধ্যায় ০৫ অপেক্ষার কোনো ব্যাকরণ নেই
টঙের দোকানের ধোঁয়া ও অনন্ত প্রতীক্ষা
সন্ধ্যার দিকে মোড়ের টঙের দোকানে যখন কেটলির সিটি বাজে, দুধ চায়ের ধোঁয়া কুয়াশার মতো মিলিয়ে যায়, তখন মানুষগুলোকে লক্ষ্য করবেন।
অনেকেই বসে থাকে একা একা। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে চোখ, কিন্তু কান সজাগ থাকে পথের দিকে। হয়তো কেউ আসবে না। হয়তো যার আসার কথা ছিল, সে বহু আগেই অন্য কোনো স্টেশনে নেমে গেছে। তবুও মানুষ অপেক্ষা করে।
কারণ অপেক্ষার কোনো ব্যাকরণ নেই। অপেক্ষার কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই।
একবার মামাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, মামা, প্রতিদিন একা একা এক কাপ চা নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা মানুষগুলোকে কেমন লাগে?
দোকানের মামা কাপ ধুতে ধুতে বলেছিল, মামা, এনারা চায়ের জন্য আসে না। এনারা আসলে একটু সময়ের জন্য নিজের মনকে ফাঁকি দিতে আসে। ঘরে গেলে একা লাগে, তাই রাস্তার ভিড়ের মাঝে অপেক্ষা খোঁজে।
অপেক্ষা মানুষকে ধ্বংস করে না, বরং অপেক্ষাহীন জীবন মানুষকে পাথর বানিয়ে ফেলে। যতক্ষণ অপেক্ষা থাকে, ততক্ষণ অন্তত হৃদয় বেঁচে থাকে।
আমরা জানি কিছু ট্রেন আর কখনো ফিরবে না। প্ল্যাটফর্ম খালি পড়ে থাকবে। তবুও শেষ আলোটুকু নিভে যাওয়া পর্যন্ত বেঞ্চে বসে থাকার যে বিষাদময় আনন্দ, তার স্বাদ কেবল নিঃসঙ্গ প্রেমিকরাই জানে।