পর্ব ২: জীবনের ক্লান্তি ও নিঃসঙ্গ পদযাত্রা

অধ্যায় ১২ কোলাহলের মাঝে নিস্তব্ধতা

জনসমুদ্রের ভেতর একাকী মানুষের পদধ্বনি

৫ মিনিট পাঠ

ঢাকা শহরের ফার্মগেট কিংবা কারওয়ান বাজার মোড়ে দাঁড়িয়ে কখনো চারপাশের মানুষের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে দেখেছেন?

হাজার হাজার মানুষ ছুটছে। বাসের জন্য হুড়োহুড়ি, হর্নের তীব্র আওয়াজ, ফেরিওয়ালার হাঁকডাক, রিকশার ঘণ্টার টুংটাং। এক অবিশ্বাস্য কোলাহল। কিন্তু এই কোলাহলের ঠিক কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে যদি আপনি চোখ বন্ধ করেন, তবে এক অদ্ভুত হিমশীতল নিস্তব্ধতা অনুভব করবেন।

মনে হবে, এই মানুষগুলোর প্রত্যেকেই নিজের নিজের এক একটা ছোট দ্বীপে বন্দি। কারো সাথে কারো কোনো সংযোগ নেই। আমরা একই ফুটপাতে পাশাপাশি হাঁটছি, একে অপরের কাঁধে ধাক্কা খাচ্ছি, কিন্তু ভেতরের অনন্ত শূন্যতায় আমরা প্রত্যেকেই এক একজন নিঃসঙ্গ নভোচারী।

একদিন এক রিকশাচালক মামা আমাকে বলেছিলেন, মামা, ঢাকায় মানুষ এত বেশি যে কারো দিকে তাকানোর সময় কারো নাই। আপনি রাস্তায় মাথা ঘুরে পড়ে গেলেও মানুষ আপনার ওপর দিয়ে পা ফেলে বাসে উঠবে।

একাকিত্ব কোনো জনমানবহীন মরুভূমিতে থাকে না। একাকিত্ব সবচেয়ে তীব্রভাবে বাস করে মানুষের ঘন ভিড়ের ভেতর।

এই নগরে থাকার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, এখানে মানুষ নিজেকে হারিয়ে ফেলে খুব সহজে। এত মানুষের চিৎকারের মাঝে নিজের ভেতরের ছোট কণ্ঠস্বরটুকু কবে যে হারিয়ে যায়, আমরা নিজেরাও টেরও পাই না।