পর্ব ২: জীবনের ক্লান্তি ও নিঃসঙ্গ পদযাত্রা

অধ্যায় ১৪ ডিজিটাল যুগে মানুষের বিচ্ছিন্নতা

অনন্ত স্ক্রলিং ও অনুভূতির অবক্ষয়

৫ মিনিট পাঠ

আমরা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি সংযুক্ত যুগে বাস করছি। আঙুলের এক স্পর্শে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে কথা বলা যায়। সামাজিক মাধ্যমে আমাদের শত শত বন্ধু আর হাজার হাজার ফলোয়ার।

অথচ মানুষ কি কখনো এত একা ছিল?

আমরা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘণ্টা স্ক্রল করি। অন্যের সাজানো জীবনের সুখী মুহূর্তগুলো দেখি আর অবচেতন মনে নিজেদের অস্তিত্বকে তুচ্ছ ভাবতে শুরু করি। আমরা হৃদয়ের অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করি কৃত্রিম রিঅ্যাকশনে, লাইক, লাভ, কেয়ার। কিন্তু এই উজ্জ্বল স্ক্রিনের ওপারে যে মানুষটা বসে আছে, তার হাত কাঁপছে কিনা, তার চোখের কোণে জল জমছে কিনা, তা মাপার কোনো সেন্সর আজও আবিষ্কৃত হয়নি।

একদিন এক আড্ডায় কথা হচ্ছিল। সবাই একসাথে বসে আছে, একই সোফায়, অথচ প্রত্যেকের চোখ নিজের নিজের ফোনের স্ক্রিনে নিবদ্ধ। কেউ কারো চোখের দিকে তাকাচ্ছে না।

প্রযুক্তির এই আলো আমাদের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। আমরা দূরের মানুষকে দেখতে পাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু পাশের মানুষটার নিঃশ্বাসের কষ্টটুকু আর অনুভব করতে পারছি না।

আমরা মেসেজ পাঠাই, কিন্তু কথা বলি না। আমরা অনলাইন থাকি, কিন্তু উপস্থিত থাকি না। এই ডিজিটাল কৃত্রিমতার ভেতর মানবাত্মা দিনে দিনে শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে।