পর্ব ১: প্রেম, আকুলতা ও অপূর্ণতা

অধ্যায় ০২ দূরত্বের নিজস্ব আলো

দাবিহীন ভালোবাসার পবিত্র একাকীত্ব

৫ মিনিট পাঠ

মহাভারতের সেই গল্পটার কথা আমার বারবার মনে পড়ে।

যখন দ্রৌপদী শেষযাত্রায় হিমালয়ের বরফে পড়ে যাচ্ছিলেন, যুধিষ্ঠির এগিয়ে গেলেন, অর্জুন তাকালেন না, নকুল ও সহদেব পিতার নির্দেশে সামনে হাঁটলেন। কিন্তু একমাত্র ভীম দাঁড়িয়ে গেলেন। দ্রৌপদী চোখ মেলে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ভীম, তুমি? আমি তো অন্য সবারও স্ত্রী ছিলাম, তবে কেবল তুমি কেন থামলে?

ভীম উত্তর দিয়েছিলেন, কথা বোলো না কৃষ্ণা, তোমার কষ্ট হবে।

এই যে ভীম, যাকে কেউ কখনো প্রেমিক হিসেবে মনে রাখেনি, কোনো কাব্যে যার ভালোবাসার প্রশংসায় গান রচিত হয়নি, তার প্রেম ছিল নিঃশব্দ ও দাবিহীন। অর্জুন দ্রৌপদীকে জয় করেছিলেন ধনুর্বাণে, কিন্তু জীবনের প্রতিটি অপমানে, প্রতিটি লাঞ্ছনায়, চোখের জলে কেবল ভীমই সবার আগে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কোনো প্রতিদানের আশা না করে।

প্রেম যদি পাওয়ার দাবি নিয়ে জন্ম নেয়, তবে তা ব্যবসা। প্রেম যখন কোনো শর্ত ছাড়াই কেবল ভালো থাকার প্রার্থনা করে যায়, তখনই তা পূর্ণতা পায়।

আমাদের জীবনেও এমন কিছু মানুষ থাকে, যাদের আমরা কখনো কাছে পাই না। তাদের সামাজিক পরিচয়ে আমাদের কোনো স্থান নেই। তাদের হাত ধরে রাস্তায় হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। অথচ দূর থেকে তাদের সুখের খবর পেলে বুকের ভেতর এক অদ্ভুত শান্তির কুয়াশা নেমে আসে।

দূরত্বেরও এক নিজস্ব আলো আছে। কাছে গেলে হয়তো মায়া ভেঙে যেত, হয়তো ভুল বোঝাবুঝি হতো। দূর থেকে দেখার মধ্যে এক অনন্ত নিষ্কলুষতা বেঁচে থাকে।