পর্ব ২: জীবনের ক্লান্তি ও নিঃসঙ্গ পদযাত্রা

অধ্যায় ১৬ ঠিকানাহীন পরিব্রাজক

গন্তব্যহীন পথের মায়া ও মুক্তি

৫ মিনিট পাঠ

ছোটবেলায় ভাবতাম জীবনের কোনো একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে। বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার বা ডাক্তার হব, টাকা কামাব, সামাজিক মর্যাদা অর্জন করব, এবং একদিন সেই গন্তব্যে পৌঁছে পরম সুখে বাস করব।

কিন্তু এখন বুঝতে পারি, জীবন কোনো গন্তব্য নয়। জীবন হলো কেবলই এক পথচলা।

যখন আপনার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানার মোহ থাকবে না, তখন আপনি আর পথ হারানোর ভয় পাবেন না। যে মানুষ মেনে নিয়েছে যে সে আসলে এই পৃথিবীতে একজন পথভ্রষ্ট মুসাফির, তার কাছে প্রতিটি মোড়ই এক নতুন উপত্যকা। প্রতিটি বিচ্ছেদই এক নতুন স্বাধীনতা।

তুই ক্লান্ত কেন হোস রে আমার মন, সবে তো তোর যাত্রা হলো শুরু… সঙ্গে চলার প্রতিশ্রুতি দলে পথের সাথী যায় যদি যাক চলে, তুই পথে পথেই পাবি আপনজন। তুই পথের কবি, পথেরই রতন।

পথের সাথীরা আসবে, কিছুদিন হাত ধরে হাঁটবে, তারপর নিজের স্টেশনে নেমে যাবে। তাদের আটকে রাখার চেষ্টা করা বোকামি। তাদের বিদায় জানিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই এই পরিব্রাজকের একমাত্র কাজ।