অধ্যায় ২৮ অহংকার চূর্ণ হওয়ার মুহূর্ত
তারামণ্ডলের নিচে মানুষের ক্ষুদ্রতা
কখনো কোনো পাহাড়ি রাতে অথবা সমুদ্রের ধারে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখেছেন?
বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্র জ্বলছে। লাখ লাখ আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথগুলোর আলো এসে আপনার চোখে পড়ছে। এই অসীম, অনন্ত মহাবিশ্বের সাপেক্ষে আমাদের পৃথিবীটা একটা ধূলিকণার সমান। আর সেই ধূলিকণার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই আশি-একশো বছরের একটা মানুষ কত বড় বড় কথা বলে!
তার কত অহংকার, কত রাগ, কত আত্মগরিমা!
যখন আপনি মহাবিশ্বের স্কেলে নিজেকে দেখতে শিখবেন, তখন আপনার অহংকার নিজে থেকেই চূর্ণ হয়ে ধুলোয় মিশে যাবে। আপনি বুঝবেন, আপনার কোনো ক্ষতিই এমন কিছু বড় নয় যা ইতিহাস মনে রাখবে। আপনার কোনো জয়ই এমন চিরস্থায়ী নয় যা মুছে যাবে না।
নিজের তুচ্ছতাকে মেনে নেওয়ার ভেতরেই মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তি। যখন ‘আমি’ হারিয়ে যায়, তখনই মহাবিশ্বের সাথে একাত্ম হওয়া যায়।
অহংকার চূর্ণ হলে মানুষের ভেতর জন্ম নেয় বিনম্র করুণা। তখন সে আর অন্য কাউকে ছোট করতে পারে না।